বাংলাদেশে ম্যাসাকার জুলাই – আগস্ট ‘২৪ রাষ্ট্র সংস্কারের নয়া প্রস্তাবনা – শামসুল আলম
বাংলাদেশে ম্যাসাকার জুলাই-আগস্ট’২৪: রাষ্ট্র সংস্কারের নয়া প্রস্তাবনা বইয়ে প্রচলিত সকল সরকার ব্যবস্থার অগণিত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী আদর্শের আলোকে লেখক একটি নতুন রাজনৈতিক ও সরকার ব্যবস্থার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এটা সময়োপযোগী কেননা জুলাই-আগস্ট’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জনগণের মাঝে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার উত্থান ঘটেছে। তাঁরা চায় একটি কার্যকরী ও টেকসই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যেখানে সকলের জন্য থাকবে মৌলিক অধিকার, অপরিহার্য চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জান ও মালের নিরাপত্তা, কাজ করার সুযোগ এবং সেটি হবে দুর্নীতি মুক্ত, নিপীড়নহীন ও বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র। এমনই একটি রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রস্ত াবিত হয়েছে বইটিতে।
শুরুতে লেখক গণতন্ত্রের সাহিত্য পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে তিনি গণতন্ত্রের উৎপত্তি, প্রাচীন ও আধুনিক সময়ে এর গণতন্ত্র এবং এর গুণাবলী ও কুফল নিয়ে আলোচনা করেছেন। মূলত দেখানো হয়েছে আমাদের মত দেশে জনগণের নামে গণতান্ত্রিক আচ্ছাদনের আড়ালে যে শাসন চলে তা হয় মুষ্টিমেয় কয়েকজনের শাসন, প্রায়সী স্বৈরাচারী, ধনীদের শাসন, দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য, স্বার্থান্বেষী, নিপীড়নকারী, মৌলিক অধিকার হরণকারী, অত্যাচারী ও পক্ষপাতদুষ্ট। এছাড়াও কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী চাকরীর অধিকার ও সুযোগ এবং এতদসম্পর্কিত ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি চিত্রিত হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের নয়া প্রস্তাবনায় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেমন শাসন পদ্ধতি, আইন, আইন পরিষদের কাঠামো, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, অপসারণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য, সর্বোচ্চ পরামর্শক পরিষদ, আদালতে ইসলামিক বেঞ্চ, সকল পর্যায়ে নির্বাচন পদ্ধতি, স্থানীয় সরকার (গ্রাম, ইউনিয়ন, যেলা, বিভাগ পর্যায়ে) এবং প্রস্তাবিত রূপরেখার সম্ভাব্য বাধাসমূহ।
প্রস্তাবনার মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়গুলির অন্যতম হচ্ছে যে শাসক, দায়িত্বশীল এবং ভোটার সকলেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া। কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও ইসলামিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিগণ শাসক বা কোন দায়িত্বশীল পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন। অনুরূপভাবে ভোটাররাও ন্যূনপক্ষে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নৈতিকতা সম্পন্ন হ’তে হবে।
এটা অত্যন্ত যৌক্তিক কেনোনা যেকোন প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়োগ কমিটি করা হয় যারা যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে। অথচ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কারুরি প্রয়োজনীয় যোগ্যতার কোন মানদণ্ড থাকে না। আর একটি উল্লেখযোগ্য প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে প্রার্থীদের কোন দলভুক্ত না হওয়া।
একদলের সাথে আর একদলের হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, মারামারি, আর কাটাকাটির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়, পাবলিক-প্রাইভেট সম্পত্তি বিনষ্ট হয়, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শান্তিশৃঙ্খলা ব্যাহত হয় তথা দেশের ও জনগণের সীমাহীন ক্ষতিসাধন হয়। আর একটি মৌলিক পরিবর্তন হচ্ছে জ্ঞানী, যোগ্য, ইসলামিক মুল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত সর্বোচ্চ পরামর্শক পরিষদ থাকা যারা শাসকদের মূল্যবান পরমর্শ দিবেন এবং জাতির ‘ওয়াচডগ’ হিসাবে কাজ করবে। উপরন্তু প্রস্তাবিত সংস্কার ইসলামিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমঅধিকারের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারী মর্যাদা ও সৌহার্দ নিশ্চিত করবে।
বইটি সুলিখিত, সময়োপযোগী, উদ্ভাবনমূলক এবং একটি জাতি ও দেশ সংস্কারের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি নয়া প্রস্তাবনা পেশ করেছে। আমি আশা করি পাঠক সমাজ বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারকগণ এই বই থেকে প্রভূত উপকৃত হবেন। মহান আল্লাহ লেখককে উত্তম পুরস্কার দান করুন। আমীন!







Reviews
There are no reviews yet.